১৯৯০ সালের জানুয়ারী মাসের ১তারিখ সার্টিফিকেট অনুযায়ী জন্ম।
Monday, June 1, 2026
Wednesday, May 6, 2026
মাঝপথের মানুষ -- মোঃ হেলাল উদ্দিন
মহাসড়কের ধুলোভেজা বিকেল। দূরে সারি সারি বাস—যেন স্থির নদীর ওপর থমকে থাকা নৌকা। হেডলাইটগুলো জ্বলছে, নিভছে, আবার জ্বলছে—ঠিক যেন অপেক্ষার চোখ।
তাসফিয়া জানালার পাশে বসে মোবাইল তুলে একটা ছবি তোলে। ছবির ক্যাপশনে লিখে—
“কখন যে ঢাকায় পৌঁছাতে পারবো, জানিনা...”
স্টোরি আপলোড হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই রিপ্লাই আসে—
—“আপনি কোন বাসে আছেন?”
তাসফিয়া একটু থামে। নামটা দেখে চিনতে পারে—তাওসিফ। বহুদিনের ফেসবুক ফ্রেন্ড, অথচ একটাও কথা হয়নি কখনো।
সে ছোট করে উত্তর দেয়—
—“গ্রীণ লাইন।”
ওপাশ থেকে আবার—
—“আপনি কি জ্যামে?”
—“হ্যাঁ। আপনি?”
একটু দেরি করে রিপ্লাই আসে—
—“হুম… তবে ঢাকায় যাচ্ছি না। মাঝপথে নেমে যাবো।”
এই ছোট্ট কথোপকথন—যেন একটা দরজা। অদৃশ্য, অথচ খোলা।
তারপর দিন যায়। কথাও বাড়ে।
প্রথমে খোঁজখবর, তারপর গল্প, তারপর নীরবতাও যেন কথা হয়ে ওঠে।
তাওসিফ শব্দের মানুষ। ব্যাংকের ফাইলের ভেতরে তার দিন আটকে থাকলেও, রাত হলেই সে শব্দে আশ্রয় নেয়। কবিতা লেখে। আবৃত্তি করে। তার শব্দে নদী থাকে, কুয়াশা থাকে, আর অদ্ভুত এক শূন্যতা থাকে—যেটা তাসফিয়ার খুব পরিচিত লাগে।
তাসফিয়া মানুষ গড়ার কাজ করে—শিক্ষক। ক্লাসরুমে তার কণ্ঠ দৃঢ়, কিন্তু নিজের জীবনে সে যেন একটু ভেসে থাকা মানুষ। শাড়ি তার ভালোবাসা—প্রতিটি শাড়ি যেন একেকটা ঋতু। নতুন শাড়ি পরে নতুন জায়গায় গেলে সে ছবি তোলে—আর সেই ছবির নিচে তাওসিফ লিখে ফেলে কবিতা।
“তোমার শাড়ির আঁচলে আজকে বিকেলের রোদ আটকে গেছে—
আমি দূর থেকে শুধু আলোর গন্ধ পাই…”
এমন লাইন পড়ে তাসফিয়া চুপ করে থাকে। উত্তর দেয় না, কিন্তু পড়ার পর তার ভেতরে কিছু নরম হয়ে যায়।
একদিন তাওসিফ একটা কবিতা লিখলো—
“দেখা হোক কোনো এক অনির্ধারিত দুপুরে—
যেখানে সময় থেমে থাকবে চায়ের কাপের ধোঁয়ায়,
আর আমরা দু’জন—
অচেনা হয়েও পরিচিত হয়ে উঠবো…”
কবিতাটা পড়ার পর তাসফিয়া অনেকক্ষণ কিছু লেখে না। শুধু স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকে।
তার ভেতরে এক অদ্ভুত ইচ্ছে জন্ম নেয়—
দেখা করার।
কিন্তু কেউ কাউকে বলে না।
হঠাৎ একদিন—
একটা শপিংমলের ভিড়ে—
দু’জনের চোখে চোখ পড়ে।
যেন গল্পের ভেতর থেকে বাস্তব হঠাৎ বের হয়ে এসেছে।
—“তাসফিয়া?”
—“তাওসিফ?”
দু’জনেই একটু হেসে ফেলে।
সময় তখন খুব কম। কথা হয় অল্প—
তবুও সেই অল্প কথার মধ্যে অদ্ভুত এক স্বাচ্ছন্দ্য।
বিদায়ের আগে তাওসিফ বলে—
“একদিন কফি খাওয়া যেতে পারে…”
তাসফিয়া মাথা নাড়ে—
“হতে পারে।”
তারপর আবার তারা ফিরে যায় নিজেদের জীবনে।
কিন্তু এবার কথাগুলো বদলে যায়।
মাঝে মাঝে কথা হয়—
কিন্তু না বললেও অনেক কিছু বলা হয়ে যায়।
এই সম্পর্কের কোনো নাম নেই।
বন্ধুত্ব?
ভালোবাসা?
নাকি শুধু অভ্যাস?
তারা কেউই জানে না।
তবুও—
রাতের শেষে দু’জনেই অপেক্ষা করে—
একটা “অনলাইন” দেখার জন্য।
একদিন হঠাৎ তাসফিয়া জানতে পারে—
তাওসিফ যেই “মাঝপথে নেমে যাবো” বলেছিল—
সেটা শুধু বাসের কথা ছিল না।
তাওসিফ আসলে একটা সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসছিল।
একটা দীর্ঘ, ক্লান্ত, ভাঙা সম্পর্ক।
আর তাসফিয়া?
সে বুঝতে পারে—
সে হয়তো তাওসিফের “শেষ গন্তব্য” না—
বরং সেই “মাঝপথ”—
যেখানে মানুষ একটু থামে, শ্বাস নেয়, আবার এগিয়ে যায়।
তাসফিয়া আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে। নতুন একটা শাড়ি পরে আছে।
মোবাইলে একটা মেসেজ টাইপ করে—
“আজ কফি খাওয়া যাবে?”
কিছুক্ষণ পর রিপ্লাই আসে—
“আজ না…
আমি একটু দূরে যাচ্ছি।”
তাসফিয়া ফোনটা নামিয়ে রাখে।
হাসে। খুব হালকা একটা হাসি।
কারণ সে জানে—
সব গল্পের শেষ একসাথে হওয়া না।
কিছু গল্প শুধু সুন্দরভাবে অসম্পূর্ণ থাকার জন্যই জন্ম নেয়।
আর দূরে কোথাও—
মহাসড়কে আবার বাসের লাইন দাঁড়িয়ে থাকে—
যেন সময় এখনও কোথাও আটকে আছে…
Saturday, May 2, 2026
নীল ডায়েরির অমীমাংসিত পাতা -- মোঃ হেলাল উদ্দিন
নতুন স্কুল, নতুন বেঞ্চ, নতুন গন্ধ—চক আর কাগজের মিশ্র এক অচেনা সকাল। প্রথম দিন প্রথম ক্লাসে ঢুকেই চোখ আটকে গিয়েছিল। বোর্ডে তাকানোর কথা ছিল, অথচ চোখ চলে গিয়েছিল জানালার ধারে বসে থাকা মেয়েটির চোখে। অদ্ভুত শান্ত, অথচ কৌতূহলে ভরা—ঠিক যেন অপরিচিত কোনো নদী, যার দিকে তাকালে নামতে ইচ্ছে করে, কিন্তু নামার সাহস নেই।
নীল জলধির উপাখ্যান -- মোঃ হেলাল উদ্দিন
সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়ালে মানুষের দম্ভ চূর্ণ হয়ে যায়, কিন্তু নীলয় আজ সেখানে দাঁড়িয়েছে নিজের হাহাকার বিসর্জন দিতে। আজ পূর্ণিমা। আকাশের চাঁদটা যেন খুব নিচে নেমে এসেছে, ঠিক যেমনটা কবিতায় বলে— ‘আকাশের চাঁদ মর্ত্যে নামলো, রূপের আঁচল মেলে।’
নীলার নীলে আবির -- মোঃ হেলাল উদ্দিন
শহুরে কোলাহল ছেড়ে নীলা যখন শান্ত স্নিগ্ধ গ্রামে এসে পৌঁছালো, তখন তার মনে ছিল বিষণ্নতা। বাবার অসুস্থতা আর পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে আসার কষ্ট তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছিল। কিন্তু সেই বিষণ্নতার মাঝেও নীলা ছিল এক অপূর্ব রূপবতী—দুধে-আলতা গায়ের রঙ আর মায়াবী ডাগর চোখের এক কিশোরী।
নীলা চলে গেল নতুন শহরে, নতুন সংসারে। আর আবিরের কাছে রয়ে গেল স্কুলের সেই পুরনো বেঞ্চ, মেঠো পথ আর এক বুক না বলা কথা। সেই শান্ত গ্রামে আজও বিকেল হয়, কিন্তু সেই কিশোরীর অপেক্ষায় কোনো এক কিশোর আর মেঠো পথ পাড়ি দেয় না। তাদের সেই নীরব প্রেম এখন কেবল বাতাসের দীর্ঘশ্বাস হয়ে মিশে আছে।
নীলার নীলে আবির -- মোঃ হেলাল উদ্দিন
যে প্রেম ছোঁয়নি -- মোঃ হেলাল উদ্দিন
রাইসার জীবনে দ্বিতীয়বার বিশ্বাস শব্দটা আসেনি সহজে। ডিভোর্সের পর সে নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছিল—ক্যারিয়ার, সম্মান, আত্মনির্ভরতা। তবু রাতের বেলা জানালার পাশে দাঁড়ালে বুকের ভেতর একটা অপূর্ণ জায়গা হাহাকার করতো। সেই হাহাকার থেকেই কবিতা। শব্দের ভেতর সে নিজের শরীর নয়, নিজের মন খুলে দিত।
আর কিছু মানুষ কষ্ট দিয়ে চলে যায়—শুধু এই কারণে যে, তারা ভালোবাসা আর স্পর্শকে এক করে ফেলেছিল।
যে প্রেম ছোঁয়নি -- মোঃ হেলাল উদ্দিন
Wednesday, April 29, 2026
মায়ার আবরণে এক চিলতে রোদ-- মোঃ হেলাল উদ্দিন
ভালোবাসা হয়তো সবসময় মিলনে পূর্ণতা পায় না—কিছু ভালোবাসা অমর হয়, শুধু হৃদয়ের গভীরে থেকে যাওয়ার মধ্য দিয়েই।

Sunday, April 26, 2026
লকেটের সেই সোনালী ঝিলিক -- মোঃ হেলাল উদ্দিন
আকাশের বয়স তখন একুশ। টিউশনি শেষ করে ফেরার পথে বিকেলটা কেমন যেন মায়াবী হয়ে উঠত। রাস্তার মোড়ে পুরনো লাইব্রেরিটার সামনে সেদিন প্রথম ওকে দেখল সে। মেয়েটির নাম নীলা, সবে ষোড়শীতে পা দিয়েছে।
আকাশ জানত না ওর নাম কী, কিন্তু ওই দিন থেকে একুশ বছরের যুবকটি বুঝতে পারল— তার মনের ডায়েরিতে এক ষোড়শী বালিকা স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিয়েছে।
Sunday, April 19, 2026
বিস্মৃতির ওপারে সুখ -- মোঃ হেলাল উদ্দিন
নীলিমার ড্রয়িংরুমের দেয়ালঘড়িটা টিকটিক শব্দ করছিল। বাইরে ঝুম বৃষ্টি। বহু বছর পর অয়ন আর নীলিমা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। অয়ন খেয়াল করল, নীলিমার চোখে আগের সেই চঞ্চলতা নেই, সেখানে এখন এক থিতু হওয়া প্রশান্তি।
অয়ন বৃষ্টির শব্দে মিলিয়ে গেল। নীলিমা বুঝতে পারল, কিছু মানুষ জীবনে আসে শুধু নিজেকে পুড়িয়ে অন্যকে আলোকিত করার জন্য। অয়ন ছিল সেই মরীচিকা, যে তাকে মরুভূমি পার করে সবুজ বনানীর খোঁজ দিয়ে নিজে হারিয়ে গেছে।
অপ্রাপ্তির মায়া -- মোঃ হেলাল উদ্দিন
অফিসের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশ দেখছিলেন শফিক সাহেব। মেঘগুলো নিজের ইচ্ছেমতো ভেসে বেড়াচ্ছে, কেউ কাউকে জোর করে ধরে রাখছে না। অথচ মানুষের জীবনে এই সহজ সত্যটা মেনে নেওয়া কত কঠিন।
শফিক সাহেব বেরিয়ে গেলেন। সজীব দেখল, করিডোরের টিমটিমে আলোয় শফিক সাহেবের কোনো ছায়া পড়ছে না। তিনি যেন অন্ধকারের সাথে মিশে একাকার হয়ে গেছেন। সজীব সেই শূন্য ঘরে একা দাঁড়িয়ে রইল, আর তার কানের কাছে বারবার বাজতে লাগল—“জোর করে পাওয়া সঙ্গ সৌন্দর্য হারায়, গভীরতা হারায়... আর যা হারায়, তা কোনোদিন ফিরে আসে না।”
অপ্রাপ্তির মায়া -- মোঃ হেলাল উদ্দিন
Tuesday, April 14, 2026
মানসী স্টুডিও -- মোঃ হেলাল উদ্দিন
"মানসী স্টুডিও"—হারিয়ে যাওয়া এক সময়ের নস্টালজিয়া, না পাওয়া প্রেমের হাহাকার আর প্রযুক্তির বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া অনুভূতির এক জীবন্ত দলিল।
উপন্যাসটি পড়তে বইয়ের নামের উপড় ক্লিক করুন-
Thursday, April 9, 2026
'মানসী স্টুডিও' উপন্যাসের মূল কথা -- মোঃ হেলাল উদ্দিন
সময়টা ২০০০-এর দশকের শুরু। গ্রামবাংলার শান্ত জনপদে তখন প্রযুক্তির প্রথম ছোঁয়া লেগেছে। একদিকে এনালগ ক্যামেরার নেগেটিভ ধোলাই করার সেই ব্যাকুল অপেক্ষা, অন্যদিকে পকেটে নতুন আসা মোবাইল ফোনের এন্টেনা টেনে নেটওয়ার্ক খোঁজার রোমাঞ্চ।
শিবপুর বাজারের একমাত্র ছবি তোলার ঘর 'মানসী স্টুডিও'। এটি কেবল ছবি তোলার জায়গা ছিল না; এটি ছিল এক জোড়া তরুণ-তরুণীর অলিখিত অভয়ারণ্য। ডিগ্রি পড়ুয়া আরিফ আর একাদশ শ্রেণির চঞ্চল মেয়ে নীলা—তাদের প্রেমের সেতুবন্ধন হয়ে দাঁড়ায় একটি নোকিয়া ফোন আর রহমান মিঞার স্টুডিওর সেই অন্ধকার ডার্করুম।
কিন্তু প্রযুক্তির সিগন্যাল কি সবসময় হৃদয়ের টানে স্থির থাকে? সমাজ, পরিবার আর পরিস্থিতির ঝড়ে যখন সেই সিগন্যাল 'আউট অফ নেটওয়ার্ক' হয়ে যায়, তখন অবশিষ্ট থাকে কেবল এক টুকরো ঝাপসা ছবি আর একটি ভাঙা শাঁখা।
দশ বছর পর, যখন পৃথিবী বদলে গেছে, হাতে হাতে স্মার্টফোন আর হাই-স্পিড ইন্টারনেট—তখন সেই পুরনো ডার্করুমের ঝাপসা ছবিটা কি আজও হৃদয়ে রঙ ছড়ায়?
"মানসী স্টুডিও"—হারিয়ে যাওয়া এক সময়ের নস্টালজিয়া, না পাওয়া প্রেমের হাহাকার আর প্রযুক্তির বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া অনুভূতির এক জীবন্ত দলিল।
মানসী স্টুডিও
মোঃ হেলাল উদ্দিন
'মানসী স্টুডিও' উপন্যাসের কিছু উক্তি -- মোঃ হেলাল উদ্দিন
"লোকে বলে সময় নাকি সব ক্ষত সারিয়ে দেয়। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে সময় যেন এক নিষ্ঠুর লবণ, যা প্রতিদিন আমার ক্ষতটাকে আরও টাটকা করে তোলে। প্রতিটা বৃষ্টির ঝমঝম শব্দে আমি আজও নীলার নূপুরের রিনঝিন আওয়াজ পাই। বাতাসের প্রতিটি ঝাপটায় আমি আজও সেই চেনা ঘ্রাণ খুঁজি, যা এক সময় মানসী স্টুডিওর সেই নীল পর্দার আড়ালে আমার অস্তিত্বকে অবশ করে দিত।"
“কিছু ঝড়ে শুধু গাছ ভাঙে না, ভেঙে যায় হৃদয়ের সেই সব সূক্ষ্ম তরঙ্গ—যা দিয়ে মানুষ বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখে।”
“পৃথিবীতে প্রতিদিন কোটি কোটি ছবি তোলা হয়, কিন্তু কিছু ছবি আছে যা শুধু সিলভার হ্যালাইডের কাগজে নয়, সরাসরি সময়ের বুকের ওপর খোদাই হয়ে যায়। 'মানসী স্টুডিও'র সেই বৃষ্টিভেজা বিকেলের ফ্ল্যাশটি ছিল আমাদের জীবনের সবচেয়ে সাহসী আর সুন্দর মুহূর্ত।”
Wednesday, April 8, 2026
"মানসী স্টুডিও" উপন্যাসে লেখকের কথা -- মোঃ হেলাল উদ্দিন
"মানসী স্টুডিও" কেবল একটি কাল্পনিক উপন্যাস নয়, এটি একটি সময়ের দলিল। বিংশ শতাব্দীর শেষ আর একবিংশ শতাব্দীর শুরুর সেই উত্তাল দিনগুলো, যখন প্রযুক্তি আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছিল, সেই সময়টাকে ফ্রেমে বন্দি করার একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস এই বই।
আমরা এমন এক প্রজন্মের সাক্ষী, যারা চিঠির যুগ থেকে সরাসরি স্মার্টফোনের যুগে প্রবেশ করেছি। আমাদের কৈশোর আর তারুণ্যের সন্ধিক্ষণে ছিল অ্যানালগ ক্যামেরার রিল আর এনালগ ফোনের সাদাকালো স্ক্রিন। সেই সময়ে একটি ছবি তোলার জন্য ডার্করুমের লাল আলোয় যে প্রতীক্ষা ছিল, কিংবা একটি প্রিয় মানুষের কণ্ঠ শোনার জন্য নেটওয়ার্কের পেছনে যে হাহাকার ছিল—তা আজকের এই 'ইনস্ট্যান্ট' যুগে কল্পনা করাও কঠিন।
শিবপুর বাজার বা মানসী স্টুডিও হয়তো একটি কাল্পনিক নাম, কিন্তু এর ভেতরের আবেগগুলো ধ্রুব সত্য। আরিফ আর নীলার এই গল্পটি আসলে সেই হাজারো নাম না জানা প্রেমিক যুগলের, যাদের ভালোবাসা পূর্ণতা পায়নি ঠিকই, কিন্তু স্মৃতির গ্যালারিতে তারা আজও উজ্জ্বল। প্রযুক্তির বিবর্তনে আমরা অনেক কিছু পেয়েছি, কিন্তু ডার্করুমের সেই মায়া আর প্রতীক্ষার সেই গভীরতা বোধহয় চিরতরে হারিয়ে ফেলেছি।
এই উপন্যাসটি লিখতে গিয়ে আমি বারবার নিজের অজান্তেই সেই পুরনো দিনগুলোতে ফিরে গেছি। যারা সেই সময়টাকে যাপন করেছেন, আশা করি তারা বইটির পাতায় পাতায় নিজেদের খুঁজে পাবেন। আর যারা নতুন প্রজন্মের পাঠক, তারা হয়তো অনুভব করতে পারবেন কেন তখনকার প্রেমগুলো এত বেশি গভীর আর কাব্যিক ছিল।
পরিশেষে, যারা এই পাণ্ডুলিপিটি তৈরিতে এবং উৎসাহ দিয়ে পাশে ছিলেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। পাঠকদের হৃদয়ে 'মানসী স্টুডিও'র জন্য একটুখানি জায়গা হলে আমার এই শ্রম সার্থক হবে।
সবাই ভালো থাকুন, স্মৃতির ডার্করুমে ভালোবাসা বেঁচে থাকুক।
মোঃ হেলাল উদ্দিন
এপ্রিল, ২০২৬









