'নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন' বইটি পড়তে/ ফ্রি ডাউনলোড দিতে
'নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন' বইটি পড়তে/ ফ্রি ডাউনলোড দিতে
প্রতিটি কাজেই নৈতিকতার একটা দিক রয়েছে। এই নৈতিকতা কোন আইন নয়, তবে মানুষ এর প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং নৈতিকতা মানুষের সংস্কৃতির সাথে যুক্ত। অনৈতিক কোন কিছুই সমাজ ভালো চোখে দেখে না। গবেষণার ক্ষেত্রে নৈতিকতা আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নৈতিকতা হলো ব্যক্তিগত কতিপয় আচারণ পদ্ধতি/বিধি যা নিজের, অন্যদের এবং সমাজের পারিপার্শিকতার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভিত্তি করে গড়ে উঠে। গবেষণায় নৈতিকতা গড়ে উঠে গবেষণা কার্যক্রমের কতিপয় মৌলিক নৈতিক নীতিমালার ভিত্তিতে, যার মধ্যে রয়েছে- গবেষণার নকশা এবং বাস্তবায়ন, সমাজ এবং অন্যদের প্রতি সম্মান, সম্পদের ব্যবহার এবং গবেষণার ফলাফল, বৈজ্ঞানিক অসদাচারণ এবং গবেষণার নিয়ন্ত্রণ।
মোটকথা, নৈতিকতা হলো কোন কাজটি করা উচিত এবং কোনটি করা উচিত নয় তা খুঁজে বের করা এবং সেই অনুযায়ী কাজ করা। গবেষণায় কোন ভাবেই যেন উদারতার নীতি, উদারতার গোপনীয়তা ক্ষুন্ন না হয় তা রক্ষা করা হলো গবেষণার নৈতিকতা।
গবেষণায় নৈতিকতার নীতি সমূহ
একটি গবেষণায় অনুসৃত নৈতিকতার নীতিমালার মধ্যে রয়েছে-
১. সততাঃ গবেষণা কর্মের জন্য গবেষক অবশ্যই সততার সাথে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই, ফলাফল বিশ্লেষণ করবেন।
২. নৈর্ব্যক্তিকতাঃ গবেষককে তার গবেষণার জন্য উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, পিয়ার পর্যলোচনা, বিভাগীয় সিদ্ধান্ত, বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্য এবং অন্যান্য দিকগুলোতে পক্ষপাত দোষে দুষ্ট হবেন না।
৩. অখন্ডতাঃ গবেষককে অবশ্যই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে এবং আন্তরিকতার সাথে চিন্তা, কাজ ও কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে।
৪. সাবধানতাঃ গবেষণা কর্মে অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কোন ধরনের গাফলতি ও অবহেলা করবেন না।
৫. অকপটতাঃ গবেষককে অবশ্যই উদার মনের হতে হবে। সংকীর্ণ মন নিয়ে সঠিক গবেষণা হয় না।
৬. বুদ্ধিভিত্তিক সম্পত্তির প্রতি শ্রদ্ধাঃ কোন গবেষকের অনুমতি ব্যতীত তার কোন অপ্রকাশিত উপাত্ত, পদ্ধতি ও ফলাফল ব্যবহার করা যাবে না।
৭. গোপনীয়তাঃ গবেষককে অবশ্যই নিজের এবং অপরের গোপনীয়তাকে সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।
৮. দায়িত্বশীল প্রকাশনাঃ গবেষক শুধু নিজের নয়, অন্যের সঙ্গেও মিলে যায় এমন অংশ এড়িয়ে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ দিয়ে অন্যের গবেষণাকে সম্মান জানাবেন।
৯. সহকর্মীর প্রতি শ্রদ্ধাশীলঃ গবেষককে তার অন্যান্য সহকর্মীর প্রতি শ্রদ্ধশীল হতে হবে।
১০. দায়িত্বশীল রক্ষণাবেক্ষণঃ গবেষক কেবল নিজের প্রতি নয়, অন্যদের প্রতিও দায়িত্বশীল হবেন। তাদের প্রতি পরামর্শ প্রদান, অন্যদের ও সমাজের কল্যাণে কাজ করবেন।
১১. সামাজিক দায়িত্বশীলতাঃ সামাজিক মূল্যবৃদ্ধি, সামাজিক কল্যাণ সাধন করার জন্য কাজ করাও গবেষণার নৈতিকতার অর্ন্তভুক্ত।
১২. আইনের প্রতি শ্রদ্ধাঃ গবেষককে সরকারি, বেসরকারি, প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক আইন মেনে চলা কর্তব্য।
১৩. মানবিক বিষয় সংরক্ষণঃ মানবিক বিষয় নিয়ে গবেষণা করার সময় গবেষক ব্যক্তির মর্যাদা, গোপনীয়তা এবং স্বকীয়তাকে সম্মান করবেন।
১৪. কর্মদক্ষতাঃ গবেষক তার কর্মদক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে গবেষণায় নীতি নৈতিকতা মান্য করে চলবেন।
১৫. বৈষম্যহীনতাঃ গবেষণা করতে গিয়ে গবেষক কোন ভাবেই জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ দ্বারা পরিচালিত হবেন না। এক্ষেত্রে তিনি নিরপেক্ষতার নীতি অবলম্বন করবেন।
গবেষণায় পালনীয় নীতিমালা
গবেষণা ক্ষেত্রে যে সকল নৈতিকতার কথা বলা হয়েছে তাছাড়াও আরো কতিপয় নীতিমালা অনুসরন করতে হয়। কেননা, গবেষণায় সার্বজনীন বলে তেমন কিছু নেই। গবেষণায় অনুসৃত নীতিমালা সম্পর্কে জড়মবৎ উ. ডরহসবৎ এবং ঔড়ংবঢ়য জ. উড়সরপশ তাদের ডযধঃ রং ঊঃযরপং রহ জবংবধৎপয ধহফ ডযু রং রঃ ওসঢ়ড়ৎঃধহঃ লেখায় তিন ধরনের নীতিমালার কথা বলেছেন-
১. স্ব-নির্ধারণঃ গবেষক কোন বিষয়ে কাউকে কোন কিছু করতে বাধ্য করতে পারে না। ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কাজ করবেন। ব্যক্তির অধিকার, মূল্যবোধ, সিদ্ধান্ত, সংস্কৃতি প্রভৃতির ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেয়া গবেষকের কর্তব্য।
২. প্রযুক্তিগত তত্ত্বের ভারসাম্যঃ তত্ত অনুযায়ী ব্যবহারযোগ্য ও প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে নৈতিকতার বিষয়টি বিবেচ্য। সর্বোচ্চ লাভের জন্য সর্বনিন্ম ক্ষতির বিষয়টি ছাড় দেয়া যেতে পারে।
৩. আপেক্ষিকতার তত্ত্বঃ আসলে কোন ধরনের নৈতিকতার কোন আদর্শ রুপ নেই। তাই একজনের কাছে যা নৈতিক, অপরের কাছে তা নৈতিক মনে নাও হতে পারে। তাই কোন বিষয় বিবেচনার সময় তা আমাদের পরিবেশ ও সংস্কৃতির সাথে যায় কিনা তা বিবেচনা করতে হবে।
এছাড়াও গবেষণার ক্ষেত্রে পালনীয় কতিপয় নীতিমালা হলো-
১. গবেষণায় ইচ্ছাকৃতভাবে কারো কোন ক্ষতি না করতে সচেষ্ট থাকা।
২. যাদের নিয়ে গবেষণা করা হয় তাদের মঙ্গল সাধনে সচেষ্ট থাকতে হবে। কোন ভাবেই তাদের বঞ্চিত করা যাবে না।
৩. ব্যক্তির সকল ধরনের গোপনীয়তা রক্ষা করে তার প্রতি সঠিক আচরণ করতে হবে।
৪. গবেষণার সর্বক্ষেত্রে সর্তক থাকতে হবে। অসর্তকতার কারনে যেন কোন ধরনের ভুল না হয় সেদিকে খেয়ার রাখতে হবে।
৫. ব্যক্তির সম্মতিতে গবেষণা করতে হবে। কোনভাবেই তাকে বাধ্য করা যাবে না।
৬. গবেষণায় অংশগ্রহনকারীদের কাছে গবেষণার উদ্দেশ্য, প্রকৃতি বলতে হবে। কোনভাবে সত্যকে লুকানো যাবে না।
গবেষণায় অসদাচরণ
গবেষণায় অসদাচরণ হলো গবেষণার নৈতিকতা না মেনে গবেষণাকর্ম পরিচালনা করা। গবেষণায় অসদাচরণের মধ্যে রয়েছে-
১. জাল তথ্য উপস্থাপনঃ কোন গবেষণাকর্মে গবেষক যখন মিথ্যা তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন বা মনগড়া ফলাফল তৈরি করে কিংবা ভুল প্রতিবেদন তৈরি করে উপস্থাপন করেন তা গবেষণায় অসদাচরণের মধ্যে ধরা হয়।
২. চৌর্যবৃত্তিঃ গবেষণাকর্মে যখন অন্যের ধারণা, পদ্ধতি বা ফলাফল হুবহু বা লাইলের পর লাইন তুলে দেয়া হয় কোন ধরনের তথ্যসূত্র দেয়া ছাড়া নিজের বলে জমা দেয় তখন গবেষক চৌর্যবৃত্তির দায়ে অভিযুক্ত হবেন। এই ধরনের কার্য গবেষণার অসদাচরণ তাই এ থেকে বিরত থাকতে হবে।
৩. মিথ্যা বক্তব্যঃ গবেষণায় সংগৃহীত তথ্য কোন ধরনের যাচাই-বাছাই না করে কিংবা সংগৃহীত তথ্যের সঠিক ফলাফল উল্লেখ না করে, ফলাফল হেরফের করে বা পরিবর্তন করে গবেষণাটি উপস্থাপন করে তখন এটি মিথ্যা বক্তব্য বলে গণ্য হয় এবং এটি গবেষণায় একটি অসদাচরণ।
মোটকথা, সামাজিক গবেষণায় গবেষকের নিজস্ব আদর্শ, চিন্তা-ভাবনা, মতামত থাকতে পারে তবে তা কখনোই সংগৃহীত তথ্যের ফলাফলের উপর প্রভাব বিস্তার করতে দেয়া যাবে না। সংগৃহীত তথ্যের বিশ্লেষণে যে ফলাফল পাওয়া যাবে তাই প্রকাশ করতে গবেষককে সচেষ্ট থাকতে হবে এবং এখানেই গবেষণার নৈতিকতা বিষয়টি দৃঢ়ভাবে মানতে হবে।
সহায়ক গ্রন্থ
1. www.researchethics.ca, Research Ethics in the Social Science and Humanities.
2. www.libguides.library.cityu.edu.hk, Research Methods.
3. www.stir.ac.uk, Understanding Ethics.
4. www.nichs.nih.gov, What is Ethics in Research and Why is it Important.
5. www.researchethics.ca, What is Research Ethics.
গবেষণায় নৈতিকতার ধারণা
বাড়ি ভর্তি মানুষের শোরগোল। উৎসবের আমেজ চারদিকে। রান্নাঘর থেকে ভেসে আসা পোলাও-মাংসের সুবাস আর আত্মীয়-স্বজনের হাসাহাসিতে পুরো বাড়ি যেন এক জীবন্ত মেলায় রূপ নিয়েছে। কিন্তু এই উৎসবের জনসমুদ্রের মাঝেও এক টুকরো নির্জন দ্বীপের মতো নিজেদের গুটিয়ে রেখেছে তরু আর শশী।
তরু আর শশী—সদ্য বিবাহিত এক দম্পতি। বসন্তের নতুন পাতার মতো তাদের সংসারে এখন কেবলই মুগ্ধতার রং। বাড়ির ছাদে বিকেলের ম্লান রোদে বসে তারা মত্ত ছিল নিজেদের একান্ত আলাপে। লোকলজ্জার ভয় বা সময়ের হিসেব—কোনো কিছুই যেন তাদের এই আড্ডার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারছিল না।
হঠাৎ গল্পের খেই হারিয়ে শশী বেশ গম্ভীর হয়ে গেল। তরুর চোখের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে সে মৃদু স্বরে বলে উঠল, “আচ্ছা তরু, তুমি কি সত্যিই জানো আমি কে?”
তরু খিলখিল করে হেসে উঠল। শশীর কাঁধে হাত রেখে মজা করে বলল, “জানবো না কেন? তুমি তো আমার সেই একগুঁয়ে শশী, যাকে নিয়ে আমার ছোট একটি সুখের সংসার।”
শশীর চোখে এবার কোনো হাসির রেখা দেখা গেল না। বরং সেখানে জমাট বাঁধল এক গভীর বিষণ্ণতা। সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “না তরু, এই শশীর আড়ালেও আমার একটা আলাদা সত্তা আছে, একটা ধূসর পরিচয় আছে। যা পৃথিবীর কেউ জানে না, এমনকি তুমিও না।”
শশীর কণ্ঠস্বরে এমন এক শীতল গাম্ভীর্য ছিল যে তরু সত্যিই দমে গেল। তার বুকের ভেতর একটা অজানা আশঙ্কার মেঘ জমতে শুরু করল। সে বিস্মিত চোখে জানতে চাইল, “তবে তোমার আসল পরিচয় কী শশী? আমাকে বলো।”
শশী দূর আকাশের দিকে তাকিয়ে বলতে শুরু করল তার জীবনের সেই গোপন উপাখ্যান। প্রতিটি শব্দ যেন এক একটি পাথরের মতো ভারী হয়ে নামছিল। শশী বলল, “আমার আসল নাম ঋতু ঘোষ। আজ থেকে অনেক বছর আগে, যখন আমার বয়স মাত্র দশ, তখন এক অভিমানী সন্ধ্যায় জেদ করে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলাম। সেই যে ফিরলাম না, আর কোনোদিন ফেরা হলো না।”
একটু থামল শশী। তরু পাথরের মূর্তির মতো স্তব্ধ হয়ে শুনছে। শশী আবার বলতে লাগল, “পথে পথে ঘুরে যখন দিশেহারা, তখন এই বাবা-মা আমাকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। তাঁরাই আমাকে ঋতু থেকে শশী বানালেন, আগলে রাখলেন বুক দিয়ে। আজ আমি যে শশীকে তুমি চেনো, যে প্রতিষ্ঠিত মানুষটাকে তুমি ভালোবাসো, তা কেবল তাঁদেরই অবদান। তাঁদের পরিচয়টাই এখন আমার একমাত্র পরিচয়।”
তরু বাকরুদ্ধ। যে মানুষটার সাথে সে দিনের পর দিন কাটিয়ে দিচ্ছে, তার জীবনের এমন এক অতলান্ত অন্ধকার অধ্যায় সে জানত না! সে অস্ফুট স্বরে প্রশ্ন করল, “তোমার আসল বাবা-মা? তাঁরা কি কখনো তোমাকে খুঁজতে আসেননি?”
শশী এক অদ্ভুত শীতল কণ্ঠে উত্তর দিল, “মা আসতেন। মাঝে মাঝেই পাশের গ্রামে, এমনকি পাশের বাড়ি পর্যন্ত আসতেন তাঁর হারিয়ে যাওয়া ঋতুকে খুঁজতে। আমি জানালার আড়ালে দাঁড়িয়ে দেখতাম মায়ের সেই জীর্ণ চেহারা, আকুল চোখের জল। কিন্তু কখনো সামনে যাইনি। আমি নিষ্ঠুরভাবে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিলাম।”
একথা শুনে তরুর ভেতরটা কেঁপে উঠল। সে শিউরে উঠে বলল, “তুমি এতটা নিষ্ঠুর কী করে হলে শশী? মা’র সামনে একবারও গেলে না? তুমি তো দেখছি ছোটবেলা থেকেই একটা পাষাণ হৃদয়ের মানুষ!”
তরুর এই হাহাকার শুনে শশী হঠাৎ এক বিকট অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল। সেই হাসির শব্দে চারদিকের দেয়াল যেন কাঁপতে শুরু করল। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই তরুর তন্দ্রা টুটে গেল।
ধড়মড় করে বিছানায় উঠে বসল তরু। দেখে জানালার গ্রিল দিয়ে চাঁদের আলো এসে পড়েছে শশীর মুখে। শশী গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তার মুখে এক স্বর্গীয় প্রশান্তি। তরুর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। সে অবিশ্বাসের চোখে শশীর দিকে তাকিয়ে রইল। তবে কি এতক্ষণ যা দেখল তা কেবলই একটি দুঃস্বপ্ন? নাকি স্বপ্নের ছলে শশী তাকে জীবনের কোনো নিষ্ঠুর ধ্রুবসত্য জানান দিয়ে গেল?
“এটাই কি তবে শশীর গোপন সত্যি?”—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পায় না তরু। হৃদয়ের স্পন্দন তখনো স্বাভাবিক হয়নি। শশীকে জাগিয়ে জিজ্ঞাসা করবে কি না ভাবতে ভাবতে সে আবার ক্লান্ত চোখে বালিশে মাথা রাখল। বাইরে তখন রাতপাখির ডাক আর ভেতরে তরুর মনে এক অন্তহীন রহস্যের কুয়াশা। গল্পটা হয়তো স্বপ্নই ছিল, কিন্তু তার রেশ রয়ে গেল বাস্তবের চেয়েও প্রখর হয়ে।