Monday, September 28, 2026

তুমি আমার উত্তর হয়ে থেকো -- মোঃ হেলাল উদ্দিন


প্রিয়,

জানো, জীবনে আমি কখনো এমন কাউকে চাইনি, যে আমার প্রতিটি কথার হিসাব রাখবে। আমি চেয়েছি এমন একজনকে, যার কাছে আমার নীরবতাও একটি সম্পূর্ণ বাক্য হয়ে পৌঁছাবে।

এমন একজন, যে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝে নেবে—আজ আমার ভেতরে খুব বেশি শব্দ জমেছে, অথচ আমি কোনো শব্দই উচ্চারণ করতে পারছি না।

আমি চেয়েছিলাম তোমাকে এমনভাবে, যেভাবে সন্ধ্যার শেষে মানুষ একটু শান্তি চায়। যেভাবে দীর্ঘ ক্লান্তির পর কেউ চায় পরিচিত একটি কণ্ঠ শুনতে। যেভাবে অনেক মানুষের ভিড় পেরিয়ে একজন মানুষ শেষ পর্যন্ত ফিরে যেতে চায় শুধু একজনের কাছেই।

তোমার কাছে এসে আমি যেন আর কিছুই লুকাতে না চাই।

আমার ভয়, আমার দুর্বলতা, আমার অভিমান, আমার অকারণ মন খারাপ—কিছুই না।

আমি চাই, কোনো একদিন তুমি আমার মুখের দিকে তাকিয়েই বুঝে ফেলো, আজ আমার ভেতরটা ভালো নেই। আমার ঠোঁটে হাসি থাকলেও তুমি যেন সেই হাসির আড়ালে জমে থাকা বিষণ্নতাটুকু দেখতে পাও। আমার দীর্ঘশ্বাস শুনে প্রশ্ন না করে শুধু একটু কাছে এসে বসো।

কিছুক্ষণ চুপ থেকো।

কারণ সব কষ্টের ভাষা হয় না, আর সব ভালোবাসারও কোনো উচ্চারণ লাগে না।

আমি এমন একজন মানুষ চেয়েছি, যার কাছে আমাকে বারবার প্রমাণ করতে হবে না যে আমি তাকে ভালোবাসি। যে আমার একদিনের নীরবতাকে এক জীবনের অবহেলা ভেবে নেবে না। যে আমার কোনো ভুলকে আমার বিরুদ্ধে অস্ত্র বানাবে না।

আমি ভুল করব, অভিমান করব, কখনো হয়তো অকারণে দূরে সরে যাব। তবু তুমি আমার হাতটা ছেড়ে দিও না।

শুধু মনে রেখো—কখনো কখনো মানুষ সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে তখনই, যখন সে সবচেয়ে বেশি চুপ করে থাকে।

আমি চাই, তুমি আমার অসম্পূর্ণতাগুলোকে ভালোবাসো। আমার অগোছালো কথাগুলোকে, আমার অকারণ চুপ হয়ে যাওয়াকে, আমার হঠাৎ মন খারাপকে। আমার যে অংশগুলো পৃথিবীর কাছে ব্যাখ্যাতীত, সেগুলোর কাছেও যেন তোমার ভালোবাসা পৌঁছে যায়।

আর যদি কোনোদিন আমি হারিয়ে যাই নিজের ভেতরেই, আমাকে জেরা করো না।

শুধু আমার জন্য একটু জায়গা রেখো।

কারণ আমি জানি, পৃথিবীর সব পথ শেষ পর্যন্ত কোনো না কোনো ঘরে গিয়ে থামে। আর আমার সমস্ত ক্লান্তির পর আমি যে ঘরটিতে ফিরে আসতে চাই, সেটি কোনো ইট-পাথরের ঘর নয়—

সেটি তুমি।

তোমার কাছে এসে আমি পৃথিবীর কাছে আর কিছু হতে চাই না। না সফল, না শক্ত, না নিখুঁত। শুধু তোমার মানুষ হয়ে থাকতে চাই।

যেখানে আমার ব্যর্থতারও জায়গা থাকবে, কান্নারও জায়গা থাকবে, নীরবতারও জায়গা থাকবে।

তুমি শুধু আমার জীবনের প্রশ্নপত্র হয়ো না, প্রিয়তমা।

আমার উত্তর হয়ে থেকো।

যখন পৃথিবী আমাকে বুঝতে চাইবে না, তখন তুমি আমাকে বুঝতে চেয়ো। যখন সবাই আমার কথার অর্থ খুঁজবে, তখন তুমি আমার নীরবতাটুকু পড়ো। যখন আমি নিজেকেই বুঝতে পারব না, তখনও তুমি আমার পাশে থেকো।

আর যদি কোনোদিন তোমার মনে হয় আমি বদলে গেছি, একটু কাছে এসে আমার চোখের দিকে তাকিয়ো।

হয়তো দেখবে, মানুষটা বদলায়নি—

শুধু অনেক কথা জমে গিয়ে চুপ হয়ে গেছে।

তখন আমার হাতটা ধরে নিও।

কিছু জিজ্ঞেস কোরো না।

শুধু বলো—

“আমি আছি।”

বিশ্বাস করো, পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দুটি শব্দ হয়তো এটাই।

আমি আছি।

তোমার এই থাকা যদি সত্যি হয়, তবে জীবনের আর কোনো উত্তর আমার দরকার নেই।

কারণ শেষ পর্যন্ত আমি এমন একজনকেই চেয়েছিলাম—

যার কাছে গিয়ে আমার সমস্ত অস্থিরতা থেমে যাবে,
যার নীরবতায় আমি শান্তি খুঁজে পাব,
যার চোখে নিজেকে হারিয়ে ফেলেও
আবার নিজেকেই খুঁজে পাব।

তুমি থেকো।

খুব কাছে নয়, খুব দূরেও নয়—
শুধু এতটা কাছে, যেন আমার নীরবতাও তোমার কাছে পৌঁছে যায়।

 

ইতি, 

ব্যাখ্যা দিতে না-চাওয়া মানুষটি।

 

 

তুমি আমার উত্তর হয়ে থেকো -- মোঃ হেলাল উদ্দিন  


Friday, September 25, 2026

নীরব ভালোবাসা -- মোঃ হেলাল উদ্দিন

প্রিয়তমা,

তুমি আমার দূরে থাকা এক পবিত্র ভালোবাসা।
দূরত্বের ওপারে থেকেও তুমি কীভাবে যেন প্রতিদিন আমার খুব কাছে এসে দাঁড়াও—আমার ভাবনায়, আমার নীরবতায়, আমার একান্ত অনুভূতিগুলোতে। তোমাকে চোখের সামনে দেখতে না পেলেও, মনে হয় তুমি আছো—খুব গভীরে, আমার হৃদয়ের এমন এক জায়গায়, যেখানে দূরত্বের কোনো হিসাব চলে না।

জানো, অনেক কথা আছে যা তোমাকে মুখোমুখি বসে বলতে ইচ্ছে করে। তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলতে ইচ্ছে করে—তোমাকে আমি কতটা ভালোবাসি। তোমার হাতটা নিজের হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে বসে থাকতে ইচ্ছে করে। কোনো কথা নয়, কোনো ব্যাখ্যাও নয়—শুধু তোমার পাশে থাকার অনুভূতিটুকু উপভোগ করতে চাই।

কিন্তু বাস্তবতা আমাদের মাঝে দূরত্ব এঁকে দিয়েছে। তুমি তোমার পৃথিবীতে, আমি আমার পৃথিবীতে। মাঝখানে কত পথ, কত ব্যস্ততা, কত অনুচ্চারিত কথা। তবুও আশ্চর্য, এই দূরত্ব আমার ভালোবাসাকে একটুও দূরে সরাতে পারেনি। বরং কখনো কখনো মনে হয়, দূরত্বই আমাকে আরও গভীরভাবে বুঝিয়েছে—কাউকে কাছে পাওয়ার চেয়ে, কাউকে হৃদয়ের মধ্যে ধারণ করে রাখাটাই হয়তো ভালোবাসার সবচেয়ে সত্য রূপ।

আমার প্রতিটি সকাল যেন তোমাকে ভেবেই শুরু হয়। ঘুম ভাঙার পর অকারণে তোমার কথা মনে পড়ে। দিনের ব্যস্ততার ভিড়েও হঠাৎ তোমার কোনো কথা, কোনো হাসি, কোনো স্মৃতি এসে আমার মনটাকে থামিয়ে দেয়। আর রাত যখন চারপাশের সব শব্দকে ধীরে ধীরে নিস্তব্ধ করে দেয়, তখন তোমাকে আরও বেশি মনে পড়ে। মনে হয়, পৃথিবীর সবাই যখন ঘুমিয়ে আছে, তখন আমার মন একা তোমার সঙ্গে কথা বলে যাচ্ছে।

তোমাকে আমি প্রতিদিন মিস করি।
খুব মিস করি।
কখনো কোনো কারণ ছাড়াই।
কখনো কোনো গান শুনে।
কখনো কোনো পরিচিত গন্ধে।
কখনো আকাশের দিকে তাকিয়ে।
আবার কখনো শুধু নিজের নীরবতার মধ্যেই।

এমন কোনো দিন নেই, এমন কোনো মুহূর্ত নেই, যখন তুমি একবারও আমার মনে আসো না। তুমি হয়তো জানো না, তোমাকে ঘিরে আমার কত অদৃশ্য কথোপকথন হয়। কত কথা মনে মনে তোমাকে বলি, কত প্রশ্ন করি, কত উত্তর নিজেই কল্পনা করি। কখনো মনে হয়, তুমি ঠিক আমার পাশেই বসে আছো আর আমি নির্ভয়ে তোমার সঙ্গে কথা বলছি।

কখনো হঠাৎ বাতাস এসে মুখ ছুঁয়ে যায়। তখন মনে হয়—এ বুঝি তোমারই কোনো অদৃশ্য স্পর্শ।
কখনো বৃষ্টির শব্দ শুনে মনে হয়—এই শব্দ তুমি-ও কি শুনছো?
কখনো চাঁদের দিকে তাকিয়ে ভাবি—এই একই চাঁদ তো তোমার জানালাতেও আলো ফেলছে।
কখনো বিশাল আকাশের দিকে তাকিয়ে নিজেকে সান্ত্বনা দিই—দূরত্ব যতই হোক, আমরা তো একই আকাশের নিচেই আছি।

এই ভাবনাগুলোই আমাকে তোমার কাছাকাছি রাখে।

তুমি আমার জীবনের এমন একজন মানুষ, যাকে হয়তো প্রতিদিন ছুঁতে পারি না, কিন্তু প্রতিদিন অনুভব করি। তোমার সঙ্গে প্রতিদিন কথা না হলেও, আমার মনের ভেতর তোমার সঙ্গে প্রতিদিনই যেন কোনো না কোনো কথা হয়। তুমি আমার কাছে শুধু একজন মানুষ নও; তুমি একটি অনুভূতি, একটি অপেক্ষা, একটি মায়া, একটি নীরব সুখ—যাকে শব্দ দিয়ে পুরোপুরি প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

কখনো কখনো ভয় হয়—সময় যদি বদলে যায়? মানুষ যদি বদলে যায়? দূরত্ব যদি আরও বেড়ে যায়? কিন্তু তারপরও হৃদয়ের ভেতর থেকে একটি কথাই আসে—সত্যিকারের অনুভূতি দূরত্বে মরে না। বরং সময় আর দূরত্ব পেরিয়েই তার সত্যতা বোঝা যায়।

আমি তোমার কাছে কোনো প্রতিশ্রুতির বোঝা রাখতে চাই না। শুধু চাই, তুমি জানো—কোথাও একজন মানুষ আছে, যে তোমাকে খুব নিঃশব্দে, খুব গভীরভাবে ভালোবাসে। যে তোমার ভালো থাকাকে নিজের আনন্দ মনে করে। যে তোমার হাসির কথা ভাবলে নিজের অজান্তেই হাসে। যে তোমার মন খারাপের কথা ভাবলে দূরে থেকেও অস্থির হয়ে ওঠে।

তুমি ভালো থেকো—এই প্রার্থনাটুকু আমার প্রতিদিনের।
তোমার সকালগুলো শান্ত হোক, তোমার দিনগুলো সুন্দর হোক, তোমার রাতগুলো নিশ্চিন্ত হোক। তুমি যখন একা হয়ে যাবে, তখন হয়তো আমাকে মনে পড়বে না; তবুও জেনে রেখো, সেই মুহূর্তেও কেউ একজন তোমাকে মনে করছে।

হয়তো কোনোদিন তোমার হাত ধরে দীর্ঘ পথ হাঁটার সুযোগ হবে, হয়তো কোনো সন্ধ্যায় পাশাপাশি বসে সূর্য ডোবার দৃশ্য দেখব। হয়তো কোনো এক নির্জন বিকেলে তোমাকে সামনে বসিয়ে এতদিনের জমে থাকা কথাগুলো একে একে বলব। আবার হয়তো সেই দিনটি কখনোই আসবে না। জীবন সব ইচ্ছের পূর্ণতা দেয় না—কিছু অনুভূতি শুধু হৃদয়ের ভেতর বেঁচে থাকে।

তবুও তোমাকে ভালোবাসার জন্য আমার কোনো আফসোস নেই।

কারণ তোমাকে ভালোবাসা আমার কাছে কোনো দাবি নয়, কোনো পাওয়ার হিসাব নয়। এটা আমার মনের এক নির্মল অনুভূতি—যার বিনিময়ে আমি কিছু চাই না। শুধু চাই, তুমি ভালো থেকো। তুমি সুখী থেকো। আর কখনো যদি কোনো নির্জন রাতে হঠাৎ আমার কথা মনে পড়ে, তখন মনে করবে—দূরে কোথাও একজন মানুষ আছে, যে হয়তো আজও তোমাকে একইভাবে মনে করছে।

তুমি আমার দূরত্বের মানুষ, অথচ হৃদয়ের সবচেয়ে কাছের।
তুমি আমার নাগালের বাইরে, অথচ অনুভূতির সবচেয়ে ভেতরে।
তুমি আমার প্রতিদিনের জীবনে অনুপস্থিত, অথচ আমার প্রতিটি দিনের গল্পে উপস্থিত।

জানি না ভবিষ্যৎ আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে। জানি না সময় আমাদের জন্য কী লিখে রেখেছে। শুধু এটুকু জানি—তোমার জন্য আমার হৃদয়ে যে জায়গাটি তৈরি হয়েছে, সেখানে তোমার স্মৃতি খুব যত্নে থাকবে।

যতদিন নিঃশ্বাস আছে, ততদিন হয়তো তোমাকে মনে পড়বে।
যতদিন হৃদয় অনুভব করতে জানে, ততদিন তোমার জন্য এই মায়া বেঁচে থাকবে।
আর যতদিন ভালোবাসতে পারব, ততদিন তুমি আমার সেই দূরে থাকা মানুষ হয়েই থাকবে—যাকে কাছে না পেয়েও হৃদয়ের সবচেয়ে কাছে রাখা যায়।

ভালো থেকো, প্রিয়।
দূরে থেকো, তবুও আমার অনুভূতির কাছেই থেকো।
কখনো যদি আকাশের দিকে তাকাও, মনে রেখো—এই একই আকাশের নিচে আমিও আছি।
আর হয়তো সেই মুহূর্তে, নিঃশব্দে, তোমাকেই ভাবছি।

তোমাকে খুব মিস করি।
খুব, খুব বেশি। 


ইতি,
তোমার এক নীরব ভালোবাসা।