সময়টা ২০০০-এর দশকের শুরু। গ্রামবাংলার শান্ত জনপদে তখন প্রযুক্তির প্রথম ছোঁয়া লেগেছে। একদিকে এনালগ ক্যামেরার নেগেটিভ ধোলাই করার সেই ব্যাকুল অপেক্ষা, অন্যদিকে পকেটে নতুন আসা মোবাইল ফোনের এন্টেনা টেনে নেটওয়ার্ক খোঁজার রোমাঞ্চ।
শিবপুর বাজারের একমাত্র ছবি তোলার ঘর 'মানসী স্টুডিও'। এটি কেবল ছবি তোলার জায়গা ছিল না; এটি ছিল এক জোড়া তরুণ-তরুণীর অলিখিত অভয়ারণ্য। ডিগ্রি পড়ুয়া আরিফ আর একাদশ শ্রেণির চঞ্চল মেয়ে নীলা—তাদের প্রেমের সেতুবন্ধন হয়ে দাঁড়ায় একটি নোকিয়া ফোন আর রহমান মিঞার স্টুডিওর সেই অন্ধকার ডার্করুম।
কিন্তু প্রযুক্তির সিগন্যাল কি সবসময় হৃদয়ের টানে স্থির থাকে? সমাজ, পরিবার আর পরিস্থিতির ঝড়ে যখন সেই সিগন্যাল 'আউট অফ নেটওয়ার্ক' হয়ে যায়, তখন অবশিষ্ট থাকে কেবল এক টুকরো ঝাপসা ছবি আর একটি ভাঙা শাঁখা।
দশ বছর পর, যখন পৃথিবী বদলে গেছে, হাতে হাতে স্মার্টফোন আর হাই-স্পিড ইন্টারনেট—তখন সেই পুরনো ডার্করুমের ঝাপসা ছবিটা কি আজও হৃদয়ে রঙ ছড়ায়?
"মানসী স্টুডিও"—হারিয়ে যাওয়া এক সময়ের নস্টালজিয়া, না পাওয়া প্রেমের হাহাকার আর প্রযুক্তির বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া অনুভূতির এক জীবন্ত দলিল।
মানসী স্টুডিও
মোঃ হেলাল উদ্দিন

