"মানসী স্টুডিও" কেবল একটি কাল্পনিক উপন্যাস নয়, এটি একটি সময়ের দলিল। বিংশ শতাব্দীর শেষ আর একবিংশ শতাব্দীর শুরুর সেই উত্তাল দিনগুলো, যখন প্রযুক্তি আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছিল, সেই সময়টাকে ফ্রেমে বন্দি করার একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস এই বই।
আমরা এমন এক প্রজন্মের সাক্ষী, যারা চিঠির যুগ থেকে সরাসরি স্মার্টফোনের যুগে প্রবেশ করেছি। আমাদের কৈশোর আর তারুণ্যের সন্ধিক্ষণে ছিল অ্যানালগ ক্যামেরার রিল আর এনালগ ফোনের সাদাকালো স্ক্রিন। সেই সময়ে একটি ছবি তোলার জন্য ডার্করুমের লাল আলোয় যে প্রতীক্ষা ছিল, কিংবা একটি প্রিয় মানুষের কণ্ঠ শোনার জন্য নেটওয়ার্কের পেছনে যে হাহাকার ছিল—তা আজকের এই 'ইনস্ট্যান্ট' যুগে কল্পনা করাও কঠিন।
শিবপুর বাজার বা মানসী স্টুডিও হয়তো একটি কাল্পনিক নাম, কিন্তু এর ভেতরের আবেগগুলো ধ্রুব সত্য। আরিফ আর নীলার এই গল্পটি আসলে সেই হাজারো নাম না জানা প্রেমিক যুগলের, যাদের ভালোবাসা পূর্ণতা পায়নি ঠিকই, কিন্তু স্মৃতির গ্যালারিতে তারা আজও উজ্জ্বল। প্রযুক্তির বিবর্তনে আমরা অনেক কিছু পেয়েছি, কিন্তু ডার্করুমের সেই মায়া আর প্রতীক্ষার সেই গভীরতা বোধহয় চিরতরে হারিয়ে ফেলেছি।
এই উপন্যাসটি লিখতে গিয়ে আমি বারবার নিজের অজান্তেই সেই পুরনো দিনগুলোতে ফিরে গেছি। যারা সেই সময়টাকে যাপন করেছেন, আশা করি তারা বইটির পাতায় পাতায় নিজেদের খুঁজে পাবেন। আর যারা নতুন প্রজন্মের পাঠক, তারা হয়তো অনুভব করতে পারবেন কেন তখনকার প্রেমগুলো এত বেশি গভীর আর কাব্যিক ছিল।
পরিশেষে, যারা এই পাণ্ডুলিপিটি তৈরিতে এবং উৎসাহ দিয়ে পাশে ছিলেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। পাঠকদের হৃদয়ে 'মানসী স্টুডিও'র জন্য একটুখানি জায়গা হলে আমার এই শ্রম সার্থক হবে।
সবাই ভালো থাকুন, স্মৃতির ডার্করুমে ভালোবাসা বেঁচে থাকুক।
মোঃ হেলাল উদ্দিন
এপ্রিল, ২০২৬

No comments:
Post a Comment