Thursday, January 22, 2026

নিষিদ্ধ প্রেমের গল্প -- মোঃ হেলাল উদ্দিন


সেদিন কোচিং সেন্টারে নতুন ম্যাডাম মেহজাবিন রহমানের প্রথম ক্লাস।

ক্লাসে ঢুকেই যেন ঘরটা অন্যরকম হয়ে গেল। শান্ত গলা, পরিমিত হাসি, চোখে অদ্ভুত এক বিষণ্নতা। বেঞ্চের এক কোণে বসে থাকা ছাত্রটি—আরিয়ান চৌধুরী, ক্লাসের পড়া ভুলে শুধু তাকিয়েই ছিল। সেই প্রথম দেখাতেই, অজান্তেই, তার ভেতরে কিছু একটা নড়ে উঠেছিল।

ক্লাস শেষ হলে আরিয়ান আর দশজনের মতো বেরিয়ে গেল ঠিকই, কিন্তু মনটা রয়ে গেল ম্যাডামের কণ্ঠে, তার চোখের গভীরতায়।

সেদিন রাতেই ফেসবুকে সার্চ—
“Mehjabin Rahman”
রিকোয়েস্ট পাঠানো হলো।

দিন যায়, সপ্তাহ যায়—রিকোয়েস্টের কোনো উত্তর নেই। কোচিংয়ে সুযোগ পেলেই আরিয়ান সাহস করে বলে,
— “ম্যাডাম, ফেসবুকে একটা রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছি…”
মেহজাবিন ভদ্র কিন্তু দৃঢ় গলায় বলে দেন,
— “আমি স্টুডেন্টদের ফেসবুকে ফেন্ড রিকোয়েস্ট একসেন্ট করি না। আর ম্যাসেঞ্জারেও টেক্সটে কথা বলি না।”

আরিয়ান চুপ করে যায়। অপমান নয়, বরং এক ধরনের কষ্ট নিয়ে।

সবকিছু এভাবেই শেষ হয়ে যেতে পারত। কিন্তু এক সন্ধ্যায় বদলে যায় গল্প।

আরিয়ানের ফেসবুক স্টোরিতে একটি ছবি—বৃষ্টিভেজা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তার ছায়া।
ক্যাপশন: “কিছু একাকীত্ব শব্দ চায় না।”

রাত এগারোটায় হঠাৎ ম্যাসেঞ্জারে একটি নোটিফিকেশন—
Mehjabin Rahman:
“ছবিটা সুন্দর। লেখাটাও।”

আরিয়ান বিশ্বাসই করতে পারেনি।
সেই একটুখানি কথাই যেন বাঁধ ভেঙে দিল। কথা হলো—কবিতা নিয়ে, বই নিয়ে, জীবনের ছোট ছোট শূন্যতা নিয়ে। মেহজাবিন জানালেন, তার স্বামী বিদেশে। মাসের পর মাস একা থাকা, দায়িত্বের ভিড়ে নিজের অনুভূতিগুলো চাপা পড়ে থাকা—সব কথা।

আরিয়ান শুনতো। খুব মন দিয়ে। খুব যত্ন করে।
সে এমনভাবে কথা বলতো, যেন শব্দ দিয়েই আগলে রাখতে চায়।

ধীরে ধীরে মেহজাবিন দুর্বল হয়ে পড়লেন।
একাকীত্বের রাতগুলোতে আরিয়ানের কথাই হয়ে উঠলো আশ্রয়।

তারা দেখা করতো না প্রায়ই। কারণ মেহজাবিন একা থাকতেন না—বাচ্চা, শ্বশুর-শাশুড়ি, সংসারের চোখ—সব সময় নজরে রাখতো তাকে।
তবু কোনো কোনো বিকেলে, কোচিং শেষ হলে, একটু দূরে চায়ের দোকানে বসে দু’মিনিট নীরব থাকা—সেটুকুই ছিল তাদের দেখা।

সব সময় কথা বলা যেতো না।
কখনো হঠাৎ কয়েকদিন নীরবতা।
তারপর আবার ফিরে আসা—
— “খুব মিস করছিলাম।”

এই সম্পর্কের কোনো নাম ছিল না।
ছিল শুধু ভয়, অপরাধবোধ আর অদ্ভুত টান।

একদিন মেহজাবিন নিজেই লিখলেন—
— “আরিয়ান, এটা ঠিক না। আমি জানি।”
আরিয়ান উত্তর দিল—
— “আমি জানি ম্যাডাম। তাই তো এটাকে প্রেম বলি না… অনুভূতি বলি।”

নিষিদ্ধ বলেই হয়তো এই অনুভূতি এত গভীর ছিল।

নিষিদ্ধ বলেই তারা জানতো—এই গল্পের কোনো সুন্দর শেষ নেই।

তবু কিছু গল্প শেষের জন্য লেখা হয় না।

কিছু গল্প শুধু মনে থেকে যায়—

একটি অসম্ভব ভালোবাসার মতো,

একটি নিষিদ্ধ স্মৃতির মতো।

 No photo description available.

নিষিদ্ধ প্রেমের গল্প -- মোঃ হেলাল উদ্দিন 

No comments:

Post a Comment