'হিসাব'—খুব ছোট একটা শব্দ, কিন্তু জীবন চলার পথে এর গভীরতা ও গুরুত্ব অপরিসীম। একটু চিন্তা করলেই আমরা এর ভয়াবহ প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করতে পারি। তবে আফসোসের বিষয় হলো, অনেক সময় এই উপলব্ধিটা আমাদের জীবনে বড্ড দেরিতে আসে। ততক্ষণে জীবনের অনেক মূল্যবান সময় পেরিয়ে যায় এবং বাস্তবতার কঠিন সমীকরণে জীবনের অনেক 'হিসাব' আর মিলানো সম্ভব হয় না।
আমরা অনেকেই সুকুমার রায়ের বিখ্যাত 'জীবনের হিসাব' কবিতাটি পড়েছি। সেই কবিতার পণ্ডিত মশাই এবং মাঝির কথোপকথন থেকে আমরা একটি বড় শিক্ষা পাই—কেবলমাত্র একাডেমিক বা পুঁথিগত শিক্ষাই জীবনের আসল শিক্ষা নয়। ডিগ্রির মোড়কে ঢাকা প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান আমাদের চাকরি বা পেশাগত জীবনে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু জীবনের জটিল ও কুটিল হিসাব মেলাতে তা অনেক সময়ই অপ্রতুল।
বাস্তব জীবনের কঠিন পরীক্ষাগুলোতে পাস করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরেও অনেক শিক্ষার প্রয়োজন আছে। এই শিক্ষা কোনো ক্লাসরুমে বা বইয়ের পাতায় পাওয়া যায় না; বরং এটি অর্জন করতে হয় আমাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থা, অভিজ্ঞতা, মানুষের সাথে মেলামেশা এবং চড়াই-উতরাই থেকে। একেই আমরা বলি 'বাস্তব জ্ঞান' বা 'জীবনমুখী শিক্ষা'।
যে ব্যক্তি এই বাস্তব শিক্ষাটা সঠিক সময়ে গ্রহণ করতে পারেন এবং জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সতর্কতার সাথে 'হিসাব' কষে চলতে পারেন, তাঁর জন্য জীবনের সব জটিল সমীকরণ সহজেই মিলে যায়। শুধু তাই নয়, সঠিক হিসাব ও পরিকল্পনা মেনে চলতে পারলে জীবনে খুব সহজেই সফলতা অর্জন করা যায় এবং সুখী হওয়া সম্ভব হয়।
পরিশেষে বলা যায়, আমাদের কর্ম, আচরণ এবং সিদ্ধান্তের সূক্ষ্ম হিসাবই নির্ধারণ করে আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ভালো থাকবে নাকি খারাপ হবে। তাই আসুন, পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি জীবনের বাস্তব পাঠশালা থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করি, যেন শেষ বয়সে এসে আফসোস করতে না হয় যে, 'জীবনের কোনো হিসাবই মিলল না'।

No comments:
Post a Comment