Friday, February 20, 2026

নীরবতার ভেতর তুমি -- মোঃ হেলাল উদ্দিন

আমি জানি না কেন সেদিন হঠাৎ করে তোমার নম্বরটা খুঁজে বের করলাম।
এক যুগ হয়ে গেছে—এত বছরে মানুষ ভুলে যায়, অভ্যস্ত হয়, নিজেকে বোঝায়। আমিও বোঝাতাম। সংসার, সন্তান, দায়িত্ব—সবই আছে। তবু কিছু রাতে বুকের ভেতর এমন এক শূন্যতা জমে, যার কোনো নাম নেই।

সেদিন বিকেলে আকাশটা খুব শান্ত ছিল। অকারণ শান্ত।
হাত কাঁপছিল ফোন ডায়াল করার সময়। মনে হচ্ছিল—আমি কি কোনো সীমা লঙ্ঘন করছি?
তবু কলটা চলে গিয়েছিল।

রিং গেল।
একবার।
দু’বার।

যখন তুমি “হ্যালো” বললে, আমি কয়েক সেকেন্ড চুপ করে ছিলাম।
কারণ তোমার গলা আমার কল্পনার মতো বদলায়নি।
একটু ভারী, একটু ক্লান্ত—তবু চেনা।

“আমি… কেমন আছো জানতে চাচ্ছিলাম।”
এইটুকু বলার জন্য এত বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল!

তুমি ভদ্র ছিলে। খুব ভদ্র।
আমিও।

কথা এগোয়নি।
যেন দু’জনেই জানতাম—কিছু কথা আছে, যেগুলো বলা মানেই বিপদ।

ফোনটা কাটার পর অনেকক্ষণ বসে ছিলাম।
ঘরের মানুষজনের কোলাহল, রান্নাঘরের শব্দ—সবই হচ্ছিল, অথচ আমার ভেতরে কেবল একটা পুরোনো বিকেল আটকে ছিল, যেখানে আমি আর তুমি পাশাপাশি হাঁটছিলাম।

দু’দিন পর আবার কথা হলো।

এবার ভয় কম ছিল, দ্বিধা ছিল বেশি।
আমি জানতে চাইলাম—তুমি সুখী কি না।
তুমি জানতে চাওনি আমি সুখী কি না।
হয়তো ভেবেছিলে, প্রশ্নটা করলে উত্তর শোনার সাহস থাকবে না।

আমরা সন্তানদের কথা বললাম, কাজের কথা বললাম, সময়ের অভাবের কথা বললাম।
কিন্তু প্রতিটা কথার ফাঁকে ফাঁকে আমি শুনছিলাম—
যে মানুষটাকে আমি একদিন অসম্ভব ভালোবেসেছিলাম, সে এখনো কোথাও রয়ে গেছে।

একসময় আমি বলে ফেললাম,
“আমরা কি ভুল মানুষকে বিয়ে করেছি?”

বলেই ভয় পেয়ে গেলাম।
এই প্রশ্নের উত্তর নেই—শুধু ক্ষতি আছে।

তুমি অনেকক্ষণ চুপ ছিলে।
তারপর বললে,
“আমরা হয়তো সঠিকটা করার চেষ্টা করেছি।”

এই কথার মধ্যে কোনো অভিযোগ ছিল না।
কিন্তু শান্ত স্বীকারোক্তি ছিল—ভালোবাসা আর জীবন এক জিনিস নয়।

এরপর আর কিছু বলা যায়নি।
আমি জানতাম, এখানেই থামা উচিত।
কিছু সম্পর্ক দূর থেকেই সুন্দর।

শেষবার কথা বলার সময় আমি বলেছিলাম,
“তোমার কণ্ঠটা শুনে ভালো লাগল।”

তুমি শুধু বলেছিলে,
“তুমিও ভালো থেকো।”

এই ‘ভালো থেকো’-র মধ্যে কোনো প্রতিশ্রুতি নেই, কোনো আশা নেই।
শুধু একরাশ অতীতকে সাবধানে নামিয়ে রাখার চেষ্টা।

ফোন কেটে যাওয়ার পর আমি জানালার পাশে দাঁড়িয়েছিলাম।
বাইরে সন্ধ্যা নেমেছে। আলো জ্বলছে।
সবকিছু স্বাভাবিক।

শুধু আমার ভেতরে কোথাও একজন দাঁড়িয়ে ছিল—
যে এখনো জানে,
কিছু মানুষ জীবনে ফিরে আসে না,
শুধু একবার নীরবে এসে মনে করিয়ে দিয়ে যায়—
তুমি একসময় খুব গভীরভাবে ভালোবেসেছিলে।

আর সেই স্মৃতিটুকুই
আজীবন চুপ করে বহন করতে হয়।

 কিছুমিছু - #কবিতা নীরবতার ভেতর তুমি মুন্নি নূরুল হুদা ১৪/০১/২০২৫ তোমার সাথে  আমার কোনো গল্প নেই, শুধু কিছু অসমাপ্ত বাক্য, সেই সব কথা মনে এলেই ...

নীরবতার ভেতর তুমি -- মোঃ হেলাল উদ্দিন 

Saturday, February 14, 2026

ভালো পাঠকই ভালো লেখক -- মোঃ হেলাল উদ্দিন

 

ভালো পাঠকই ভালো লেখক: নিবিড় পাঠের প্রয়োজনীয়তা

অনেকেই মনে করেন, "আমি তো নিজের মনের কথা লিখি, অন্যের কবিতা পড়ার দরকার কী? আমি কি অন্যকে অনুকরণ করব?" এটি একটি বড় ভুল ধারণা। মনে রাখবেন, অনুকরণ নয়, বরং অনুসরণ এবং অধ্যয়ন হলো শেখার প্রধান পথ। একজন ভালো মিউজিশিয়ান হতে হলে যেমন প্রচুর গান শুনতে হয়, তেমনি বড় কবি হতে হলে প্রচুর কবিতা পড়তে হয়।

১. শব্দভাণ্ডার বৃদ্ধি

জীবনানন্দ দাশ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা পাবলো নেরুদার কবিতা পড়লে আপনি জানবেন একটি সাধারণ শব্দকে কত বিচিত্র ও জাদুকরী ভাবে ব্যবহার করা যায়। যত বেশি পড়বেন, আপনার শব্দের ঝুলি তত সমৃদ্ধ হবে এবং লেখার সময় সঠিক শব্দটি আপনার কলমে অনায়াসে চলে আসবে।

২. নির্মাণ কৌশল শেখা

কবিতা কেবল ভাব নয়, এটি একটি কারিগরি কৌশলও বটে। বড় কবিরা কীভাবে উপমা ব্যবহার করেছেন, কীভাবে ছন্দের পতন ঘটিয়েও চমৎকার এক আধুনিক আবহ তৈরি করেছেন, তা কেবল নিবিড় পাঠের মাধ্যমেই শেখা সম্ভব। অন্যের শৈলী পর্যবেক্ষণ করলে আপনি নিজের জন্য একটি স্বতন্ত্র শৈলী গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা পাবেন।

৩. ভাবনার দিগন্ত প্রসারিত করা

অন্যের লেখা পড়লে নিজের ভেতরে নতুন নতুন ভাবনার উদয় হয়। বিশ্বমানের কবিরা জীবনকে কীভাবে দেখেছেন, তা জানলে আপনার চিন্তার জগত প্রসারিত হবে। এটি আপনাকে স্থবিরতা থেকে মুক্তি দেয় এবং আপনার লেখায় এক ধরণের বৈশ্বিক বা ধ্রুপদী মান তৈরি করে।


কবির জন্য পরামর্শ: "প্রতিদিন অন্তত একটি নতুন কবিতা পড়ুন। সেটি হতে পারে আপনার সমসাময়িক কারো, কিংবা শত বছর আগের কোনো মহাজনের। পড়ার সময় খেয়াল করুন—কোন শব্দটি বা কোন উপমাটি আপনাকে স্পর্শ করল এবং কেন।"

 


কালো টিপের ঘ্রাণ -- মোঃ হেলাল উদ্দিন


আমি শহরের এক পুরনো এলাকায় নতুন ফ্ল্যাটে উঠলাম। ফ্ল্যাটটা বড় নয়, তবে নিরিবিলি। চারদিকে নির্জনতা, স্যাঁতসেঁতে বাতাস আর পুরনো কাঠের ফার্নিচারের গন্ধ। সব ঠিকঠাকই চলছিল, যতক্ষণ না আমি ভেসিনের পাশে রাখা ছোট্ট গ্লাসে পড়ে থাকা একটা কালো টিপ খুঁজে পাই।

টিপটা দেখে অদ্ভুত অনুভূতি হয়। মনে হলো, আমি একা নেই। আয়নার সামনে দাঁড়ালে মাঝেমাঝে মনে হয়, কেউ ঠিক আমার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে।

---

প্রথম কয়েকদিন রাতে ঘুম ভেঙে যেত অকারণে। বাথরুমের দরজাটা একটু খোলা থাকত, কখনো কখনো দরজার নিচ দিয়ে আলো গলে আসত—যা আমি নিভিয়েই রেখেছিলাম। এক রাতে দেখি, আয়নায় কোনো প্রতিফলন নেই আমার। শুধু একটা টিপ আর একজোড়া চোখ যেন আয়নার ভেতর থেকে আমায় দেখছে।

আমি বিষয়টা বাড়িওয়ালাকে জানালে তিনি চুপ করে গেলেন। শুধু বললেন,
“বাড়িটা পুরনো। কারও কারও মনে হতে পারে কিছু আছে…”

আমি বিষয়টিকে কুসংস্কার ভেবে এড়িয়ে গেলাম। কিন্তু সত্যি কি তা এড়ানো যায়?

---
তদন্ত শুরু করলাম। আশেপাশের প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বললাম। এক বৃদ্ধা বললেন,
“আগে এখানে এক মেয়ে থাকত। তার স্বামী মারা যায় বিয়ের পরদিনই। মেয়েটা ভেঙে পড়ে। ওকে সবাই ‘বৌদি’ বলে ডাকত। খুব চুপচাপ ছিল। ঠিক যেমন ভালোবাসার অতিরিক্ত গভীরতা মানুষকে পুড়িয়ে ফেলে...”

আমি জিজ্ঞেস করলাম, “তারপর?”

তিনি ধীরে বললেন,
“হঠাৎ একদিন সে নিখোঁজ হয়ে যায়। খোঁজাখুঁজি করেও কিছু পাওয়া যায়নি। তবে তার ঘরে যা পাওয়া গিয়েছিল, তা আজও আমরা ভুলতে পারিনি—বাথরুমের আয়নায় লেখা ছিল রক্ত দিয়ে: ‘সে ফিরে আসবে টিপের ছায়ায়।’”

---
আমি স্থানীয় পুরনো এক ইতিহাসবিদের কাছে গেলাম। তাকে কালো টিপের কথা বলতেই সে থমকে গেল।

“এই রকম এক কালো টিপের কিংবদন্তি আছে,” সে বলল, “কোনো এক কালে, এক নববধূ নিজের স্বামীকে হারিয়ে পাগল হয়ে গিয়েছিল। সে আয়নার সামনে বসে প্রতিদিন সেই টিপ পরত, কপালে লাগিয়ে বলত, ‘তুমি ফিরে এসো, আমি এখানেই আছি।’ একদিন সে আয়নার ভিতরেই হারিয়ে যায়। বলা হয়, তার আত্মা সেই টিপের ভেতর বন্দি। যে সেই টিপ ছোঁবে, সে তার গল্পের পরবর্তী চরিত্র হয়ে যাবে।”

আমি ভয় পেলাম। মনে পড়ল—আমি টিপটা একবার ছুঁয়ে ছিলাম।

---
এক রাতে আয়নার সামনে সেই নারীকে আবার দেখলাম। এবার সে স্পষ্ট। চোখে জল, ঠোঁটে বিষণ্নতা।

সে বলল,
“আমি ফিরে এসেছি… কিন্তু কেউ আমাকে শোনেনি। আমার গল্প কেউ লেখেনি। তুমি কি পারবে আমাকে শেষ করতে?”

আমি চুপ করে থাকলাম। সে এগিয়ে এলো, হাতে সেই টিপ।

"এই টিপটা শুধু সাজ নয়," সে বলল, "এটা আমার অভিশাপ। যে এটা ছোঁবে, সে আমার কাহিনী বহন করবে... মৃত্যুর ওপারে, আয়নার অন্যপারে।"

আমি জ্ঞান হারালাম।

---
তিন দিন পর আমার জ্ঞান ফিরল হাসপাতালে। ডাক্তার বলল, আমি নিজের ঘরের আয়নার সামনে অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলাম। মুখে একটাও শব্দ ছিল না, কিন্তু হাতে আঁকা ছিল রক্ত দিয়ে—"শেষ হয়নি এখনো..."

বাসায় ফিরে দেখি—টিপটা নেই।

কিন্তু আয়নার সামনে দাঁড়ালে, এখনও মাঝেমাঝে মনে হয়… পেছনে কেউ দাঁড়িয়ে, চুপচাপ তাকিয়ে আছে।

অসাধারণ! প্রথম পর্বের রহস্যময়, ভয় আর বেদনার গল্পকে আমরা এখন এগিয়ে নিয়ে যাবো দ্বিতীয় পর্বে — যেখানে প্রধান চরিত্র নিজেই টিপের প্রভাবে নতুন এক অজানা জগতে পা রাখে। এখানে থাকবে অতিপ্রাকৃত ঘটনার বিস্তার, অতীতের ইতিহাস উন্মোচন, আর নতুন এক ভয়াবহ ভবিষ্যতের ছায়া...

---
ঘটনার পর তিন মাস কেটে গেছে। আমি বাসা ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু মুক্তি মেলেনি।

রাতে ঘুমালে একই স্বপ্ন দেখি—এক আয়না, আর তার ভিতরে বৌদির মতো দেখতে আরেকজন, কিন্তু মুখটা পুরো আলাদা। তার কপালেও সেই একই কালো টিপ।

সে শুধু বলে,
“তুমি টিপ ছুঁয়েছো। তুমি এখন আয়নার ঋণী।”

একদিন সকালে ঘুম ভাঙতেই দেখি, ঘরের দেয়ালে আঁচড়ের দাগে লেখা—

“তুমি কি সত্যিই মুক্ত?”

---
ঘটনা থেকে মুক্তি পেতে আমি পুরনো এলাকার এক তান্ত্রিক দোকানে যাই। দোকানের নাম "আয়নার ঘর"। বৃদ্ধ দোকানদার আমার দিকে না তাকিয়ে বলল—

“তোমার চোখে আয়নার ছায়া আছে। তুমি টিপ ছুঁয়েছো, তাই আয়নার ভেতরের ‘তৃতীয় নারী’ এখন তোমার ছায়া চায়।”

আমি বিস্মিত: “তৃতীয় নারী? বৌদি তো একজনই ছিল!”

বৃদ্ধ হেসে উঠল,
“প্রথম নারী সেই নববধূ, যে আয়নার মধ্যে হারিয়ে যায়। দ্বিতীয় নারী, যাকে তুমি বৌদি বলো, সে ছিল তার উত্তরসূরি—যাকে টিপ বেছে নেয়। আর এখন তুমি—তৃতীয় নারী নয়, তৃতীয় বাহক। টিপ তার গল্প বলায় বিশ্বাস করে। আর গল্প কখনো শেষ হয় না, যতক্ষণ না... কেউ শেষ করে দেয়।”

---
সেই রাতে, আমি আবার ঘুমোতে পারলাম না। আয়নার সামনে দাঁড়াতেই বাতি নিভে গেল। এক ঝলক হাওয়া, আয়নার কাচ কুয়াশার মতো ধূসর হয়ে উঠল।

হঠাৎই, আয়নার ভিতর থেকে হাত বাড়িয়ে এলো এক নারী। ধীরে ধীরে আমি আয়নার দিকে টেনে নেওয়া হচ্ছিলাম।

চোখ খুলতেই দেখি—আমি আর আমার ঘরে নেই।

আমি আয়নার ভেতরে।

চারদিক কুয়াশা, অদ্ভুত নিস্তব্ধতা। দূরে দূরে দাঁড়িয়ে আছে অস্পষ্ট ছায়া, প্রত্যেকের কপালে টিপ। তারা ফিসফিস করে বলছে—

“তুমি আমাদের শেষ না করলে, আমরাই তোমাকে শেষ করবো।”

---
হেঁটে হেঁটে আমি পৌঁছালাম এক পুরনো ঘরে—একখানা চেয়ারে বসে আছে সেই প্রথম নারী। চোখ ফাঁকা, ঠোঁটে ছোপ ছোপ রক্ত।

সে বলল,
“আমি টিপের স্রষ্টা। একটিমাত্র আবেগ আমাকে চিরতরে বদলে দিয়েছিল—প্রেম। কিন্তু সে প্রতারণা করেছিল। আমি আয়নাকে বানিয়েছিলাম প্রতিশোধের অস্ত্র হিসেবে। যারা টিপ ছোঁবে, তারা আমার দুঃখ বহন করবে।”

আমি কাঁপা কণ্ঠে বলি, “তাহলে আমাকে মুক্তি দাও!”

সে হাসে,
“তুমি চাইলে আমাকে থামাতে পারো। শুধু তোমাকে দিতে হবে একটি আত্মা... একটি প্রেম।”

---
সে বলল,
“তুমি যদি কাউকে এই টিপ দাও, আর সে তা ছোঁয়, তাহলে তুমি মুক্ত। তবে সে সেই চক্রে ঢুকে পড়বে।”

আমি ধাক্কা খেলাম—এক নিষ্পাপ কাউকে এই অভিশাপে ঠেলে দিতে হবে?

আমার হাতে তুলে দেওয়া হলো সেই টিপ। কালো, চকচকে, আর অদ্ভুত গরম।

আমি আয়নার বাইরে ফিরে এলাম।

---
আমি এখন আর আগের আমি নই। আয়নার ছায়া আমার চোখে। আমি বুঝে গেছি—এ গল্প আমার একার না, এটা সময়ের গল্প, অভিশপ্ত প্রেমের গল্প।

আমার ডেস্কে রাখা আছে সেই টিপ।

বন্ধুরা আসে, আড্ডা দেয়। একদিন একজন বলল, “এই টিপটা দারুণ সুন্দর! আমি একটু ছুঁই?”

আমি চুপ করে থাকি।

হয়তো আমি আর মুক্তি চাই না।

হয়তো আমি নিজেই এখন আয়নার প্রহরী।

হয়তো…

 No photo description available.

কালো টিপের ঘ্রাণ -- মোঃ হেলাল উদ্দিন  

Friday, February 6, 2026

কবিতা তৈরির প্রক্রিয়া -- মোঃ হেলাল উদ্দিন

 

KweZv ‰Zwii cÖwµqv

 

কবিতার নিয়ম জানা আর কবিতা লিখতে বসা—দুটি ভিন্ন বিষয়। একটি চমৎকার ভাবনা কীভাবে একটি সার্থক কবিতায় রূপ নেয়, এই অধ্যায়ে আমরা সেই ‘নির্মাণ কৌশল’ শিখবো।

৪.১ ভাবনা থেকে খসড়া: প্রথম কদম

কবিতা সবসময় নিয়ম মেনে বা সময় নির্ধারণ করে আসে না। এটি অনেক সময় হঠাৎ করেই হানা দেয়—হয়তো বাসের জানালায় তাকিয়ে থাকতে থাকতে, বৃষ্টির শব্দ শুনতে শুনতে কিংবা গভীর রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর। এই আকস্মিক মাথায় আসা ভাবনা বা পঙক্তিটিই হলো কবিতার বীজ।

১. দ্রুত লিখে ফেলুন

মাথায় কোনো চমৎকার পঙক্তি বা অভিনব ভাব এলে একদম দেরি করবেন না। আমাদের মস্তিষ্ক খুব দ্রুত নতুন ভাবনা ভুলে যায়।

·         পরামর্শ: হাতের কাছে খাতা-কলম না থাকলে ফোনের নোটবুক অ্যাপ বা ভয়েস রেকর্ডার ব্যবহার করুন। এই পর্যায়ে ব্যাকরণ, বানান বা ছন্দের নিখুঁত হিসেব করার কোনো প্রয়োজন নেই। আপনার লক্ষ্য হবে শুধু ভাবনাটিকে বন্দি করা।

২. ভাবনার বিস্তার

একটি মূল শব্দ, একটি দৃশ্য বা একটি বিশেষ বাক্যকে কেন্দ্র করে মনের ভেতরে ডালপালা মেলতে দিন। সেই মুহূর্তে আপনার মনে যে অনুভূতিগুলো কাজ করছে, তা যত এলোমেলোভাবেই হোক না কেন, পাতায় নামিয়ে আনুন।

·         মনে রাখবেন: প্রথম খসড়াটি সবসময়ই একটু কাঁচা হয়। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সব কবিতার প্রথম রূপটি হয়তো খুব সাধারণ ছিল। খসড়া হলো আপনার কাঁচামাল, যা পরে ঘষেমেজে উজ্জ্বল করা হবে।

৩. পরিবেশ তৈরি বনাম স্বতঃস্ফূর্ততা

কখনো কখনো কবিরা নিরালায় বসে কবিতা লেখার পরিবেশ তৈরি করেন, আবার কখনো তা ভিড়ের মাঝেও চলে আসে। দুটি পদ্ধতিই সঠিক। তবে খসড়া তৈরির সময় নিজেকে বিচার করবেন না। যা মনে আসে, তাকে অবারিত হতে দিন।

 

 


কবির জন্য একটি টিপস: "আপনার খসড়াটি পড়ার জন্য বা কাউকে দেখানোর জন্য তাড়াহুড়ো করবেন না। একে কিছুক্ষণ বা কয়েকদিন একা থাকতে দিন। মনের উত্তাপ থিতিয়ে পড়লে আপনি নিজেই আপনার খসড়া থেকে আসল কবিতাটি চিনে নিতে পারবেন।"


অনুশীলন: আজ সারাদিনে আপনার চোখে পড়া কোনো একটি সাধারণ দৃশ্য (যেমন: রোদে ঘামতে থাকা একজন রিকশাচালক বা বিকেলের ম্লান আলো) নিয়ে মাত্র ৩-৪টি এলোমেলো লাইন আপনার ফোনের নোটবুকে লিখে ফেলুন। কোনো ছন্দ মেলানোর দরকার নেই, কেবল দৃশ্যটি বর্ণনা করুন।